সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে, ২১২ জন হিন্দু তরুণীকে অ`প`হ`রণের অভিযোগে অভিযুক্ত আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা গু`লি করে হ`ত্যা করেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ২১২ জন হিন্দু তরুণী অ`প`হ`র`ণের অভিযোগও প্রচার করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আতাউর রহমান বিক্রমপুরী নি`হ`ত হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। বরং দাবি প্রচারের পরবর্তী দিনগুলোতেও তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। একইভাবে, ২১২ জন হিন্দু তরুণীকে অ`প`হ`রণের অভিযোগের পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আলোচিত দাবির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ৭ আগস্ট মুন্সিগঞ্জের টংগীবাড়ীর সোনারং এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বক্তব্য দেন। তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে ওই অনুষ্ঠানের একটি সরাসরি সম্প্রচারও পাওয়া যায়। অর্থাৎ, তাকে হত্যার দাবি প্রচারের পরদিনই প্রকাশ্য একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
এছাড়া, গত ৯ আগস্ট তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত আরেকটি সরাসরি সম্প্রচারেও তাকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। পরদিন ১০ আগস্ট মুন্সিগঞ্জের একটি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়, ৬ আগস্ট তাকে হ`ত্যার দাবিটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ২১২ জন হিন্দু তরুণীকে অ`প`হ`রণ করেছেন—এমন দাবির সত্যতা যাচাই করেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করে মূলধারার গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে এ ধরনের ঘটনার সমর্থনে কোনো প্রতিবেদন বা তথ্যের সন্ধান মেলেনি।
বিশেষ করে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২১২ জন তরুণী অ`প`হ`র`ণের মতো গুরুতর অভিযোগ সত্য হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা গণমাধ্যমে তথ্য থাকার কথা। কিন্তু অনুসন্ধানে এমন কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগটিরও কোনো ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না।

