সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৈনিক যুগান্তরের আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দাবি করা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নির্দেশে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১২৫ জন নেতাকর্মীকে হ`ত্যা করা হয়েছিল। ফটোকার্ডটিকে যুগান্তরের প্রকাশিত সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ফটোকার্ডটির উৎস অনুসন্ধান করে দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশিত সংবাদ ও ফটোকার্ডের সঙ্গে এর কোনো মিল পাওয়া যায়নি। যুগান্তরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ড এবং তাদের ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট দাবির কোনো সংবাদও পাওয়া যায়নি। একই দাবির সমর্থনে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রেও তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও যাচাই করে দেখা যায়, ভাইরাল ফটোকার্ডে ব্যবহৃত নকশাটি যুগান্তরের একটি পুরোনো থাম্বনেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মূল থাম্বনেলের শিরোনাম ও অন্যান্য উপাদান পরিবর্তন করে সেখানে আসিফ নজরুল এবং ১২৫ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হ`ত্যার দাবি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, যুগান্তরের প্রকৃত প্রকাশিত কনটেন্টকে সম্পাদনা করে নতুন বক্তব্য সংযোজনের মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ ছাড়া, আসিফ নজরুলের নির্দেশে কারাগারে ১২৫ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হ`ত্যার দাবির পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ফলে ফটোকার্ডটিতে ব্যবহৃত দাবি এবং এটিকে যুগান্তরের সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন—দুটিই যাচাইয়ে ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়।
সুতরাং, আসিফ নজরুলের নির্দেশে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১২৫ নেতাকর্মীকে হ`ত্যার দাবি করে যুগান্তরের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও সম্পাদিত।

