Google search engine
HomeOthers‘১ বছরে চট্টগ্রামে নতুন এই'ড'স রোগী ৪৬৮ জনের ৩৭৪ জনই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী’...

‘১ বছরে চট্টগ্রামে নতুন এই’ড’স রোগী ৪৬৮ জনের ৩৭৪ জনই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী’ ছদ্মলেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের ছড়ানো দাবিটি ভুয়া

‘আধুনিক গরুর রচনা সমগ্র’ বইয়ের ছদ্মলেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ গত ১১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন। তাতে দাবি করা হয়, এক বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইডস রোগী ৪৬৮ জনের মধ্যে ৩৭৪ জনই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং এ কারণে অনেকের বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। ফটোকার্ডে Chittagong Mirror-এর লোগো ও chittagongmirror.com নামে একটি ওয়েবসাইটের উল্লেখ ছিল। ক্যাপশনে তিনি আরও লেখেন, নওগাঁর এক সংসদ সদস্য লাইভ টকশোতে জানিয়েছেন—সিভিল সার্জনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেই জেলার এইডস রোগীদের প্রায় সবাই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। একই ফটোকার্ড ও তথ্য ঘিরে Monira Talksসহ আরও কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সমালোচনামূলক পোস্ট ও ভিডিওও ছড়ানো হয়।

তবে দাবি দুটির সত্যতা যাচাই করে নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস/এসটিডি কন্ট্রোলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগে মোট এইডস আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৮৩ জন। দপ্তরটির পরিচালক ডা. খায়রুজ্জামান জানিয়েছেন, ফেসবুকে প্রচারিত সংখ্যার সঙ্গে তাদের প্রাপ্ত তথ্যের কোনো মিল নেই এবং সেই দাবি সঠিক নয়। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আলাদা করে কতজন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মাস্টার্স পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে এক ক্যাটাগরিতে রাখা হয়; মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষাকে পৃথক করা হয় না।

দপ্তরটি প্রতিবছর বিশ্ব এইডস দিবসে আগের এক বছরের (নভেম্বর-অক্টোবর) তথ্য প্রকাশ করে। সেই হিসাবে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে নতুন এইচআইভি আক্রান্ত ছিলেন ১ হাজার ৮৯১ জন; চট্টগ্রাম বিভাগে ছিলেন ৩৭৬ জন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন শনাক্তদের মধ্যে মূলধারার জনগোষ্ঠী, প্রবাসী, রোহিঙ্গা এবং সুচের মাধ্যমে মাদকসেবী ও সমকামী গোষ্ঠীর উপস্থিতিই বেশি। অর্থাৎ, অফিসিয়াল পরিসংখ্যানে ‘অধিকাংশই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী’—এমন কোনো চিত্র নেই।

নওগাঁর সংসদ সদস্যের বরাতে ছড়ানো দ্বিতীয় দাবিটিও অসত্য। গত ১৩ আগস্ট নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল ডিবিসি টেলিভিশনের টকশোতে বলেছিলেন, নওগাঁয় ১২ জন এইচআইভি পজিটিভ এবং তাঁরা সবাই মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকেন। গত ২৩ আগস্ট দ্য ডিসেন্ট এই দাবি ভিত্তিহীন বলে ফ্যাক্ট-চেক প্রকাশ করে। নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম এবং বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানাও দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ, মহিউদ্দিন যে বক্তব্যকে ‘পরিসংখ্যান’ হিসেবে তুলে ধরেছেন, তা আগেই অস্বীকৃত।

ফটোকার্ডের উৎসও নির্ভরযোগ্য নয়। Chittagong Mirror নামে কোনো যাচাইযোগ্য সংবাদমাধ্যম, সামাজিকমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বা chittagongmirror.com নামের ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায়নি। ছবি শনাক্তকরণ টুল ওপেনএআই ভেরিফাই ওই ফটোকার্ডকে চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি বলে চিহ্নিত করেছে। অর্থাৎ, অস্তিত্বহীন একটি মিডিয়া ব্র্যান্ডের আদল ব্যবহার করে কৃত্রিম ছবি দিয়ে দাবিটি ছড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আগেও অসত্য তথ্য ছড়িয়েছেন। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের এক প্যানেল আলোচনাকে তিনি এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের নিজেদের আয়োজন বলে দাবি করেছিলেন এবং প্রমাণ হিসেবে একটি বুকিং স্ক্রিনশট দেখান। যাচাইয়ে দেখা যায়, অনুষ্ঠানটি অক্সফোর্ড ইউনিয়নই আয়োজন করেছিল এবং তিনি যে সময়ের বুকিংয়ের কথা বলেছেন, সে সময়সীমা খালি ছিল।

সার্বিকভাবে, চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইডস রোগীর অধিকাংশই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী—এমন কোনো সরকারি পরিসংখ্যান, নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র বা যাচাইযোগ্য ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। নওগাঁর সংসদ সদস্যের বরাতে ছড়ানো তথ্যও ইতিমধ্যে ভিত্তিহীন প্রমাণিত। ব্যবহৃত ফটোকার্ডটি অস্তিত্বহীন মিডিয়ার নামে তৈরি এবং এআই-জেনারেটেড।

সুতরাং, ‘এক বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইডস রোগী ৪৬৮ জনের ৩৭৪ জনই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী’ এবং নওগাঁয় এইডস রোগীদের প্রায় সবাই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী—মহিউদ্দিন মোহাম্মদের নামে প্রচারিত এ দাবি দুটি ভুয়া ও বানোয়াট।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular