সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ও ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে এই দাবিতে যে, যশোরের মণিরামপুরে হিন্দুপল্লীর ২৫টি বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে এবং এক হিন্দু যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পোস্টে দাবি করা হয়, স্থানীয় মুসলিমদের হামলায় এ ঘটনা ঘটেছে। ‘ব্রেকিং নিউজ’ লেখা ফ্রেমসহ ভিডিওটি পিরিও কৃষ্ণসহ একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়।
তবে দাবিটির সত্যতা যাচাই করে ভিডিওটির সঙ্গে যশোর বা মণিরামপুরের কোনো হিন্দুপল্লীর অগ্নিসংযোগ বা লুটপাটের নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। দেশের কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমেও সাম্প্রতিক সময়ে মণিরামপুরে এমন সাম্প্রদায়িক অগ্নিসংযোগের খবর প্রকাশিত হওয়ার তথ্য মেলেনি।
আলোচিত ফুটেজটির উৎস অনুসন্ধান করে দেখা যায়, একই দৃশ্য গত ৩ আগস্ট রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া এলাকা থেকে প্রচারিত হয়েছিল। সেদিন স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারী হোসেনজিয়া ইসলাম পোস্ট করে লেখেন, তিন মুসলিম ব্যবসায়ীর ফার্নিচার কারখানায় আগুন লেগেছে। যমুনা টেলিভিশনসহ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বলা হয়, ওই এলাকায় একটি বসতঘর ও তিনটি ফার্নিচারের দোকান পুড়েছে; প্রাথমিক ধারণা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। বাংলাফ্যাক্ট ও বিএসএসের ফ্যাক্ট-চেকেও একই ফুটেজকে রাঙ্গামাটির ৩ আগস্টের অগ্নিকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অর্থাৎ, রাঙ্গামাটিতে মুসলিম ব্যবসায়ীদের ফার্নিচার কারখানার পুরোনো অগ্নিকাণ্ডের ভিডিওকে যশোরের হিন্দুপল্লীতে মুসলিমদের অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট বলে নতুন করে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত স্থান, সময় বা সাম্প্রদায়িক হামলার কোনো যাচাইযোগ্য যোগসূত্র নেই।
সার্বিকভাবে, যশোরের মণিরামপুরে হিন্দুপল্লীর ২৫টি বাড়ি পোড়ানো ও লুটপাটের আসল দৃশ্য—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, স্থানীয় সংবাদসূত্র বা মূলে থাকা যশোরের ভিডিও পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত ফুটেজটি রাঙ্গামাটির পুরোনো অগ্নিকাণ্ডের।
সুতরাং, ‘যশোরে হিন্দুপল্লীতে আগুন ও লুটপাট’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।

