সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, রাঙামাটির সাপছড়ি ইউনিয়নের নারেইছড়ি এলাকায় জেএসএস সন্তু গ্রুপের স`শ`স্ত্র সদস্যরা সেনাবাহিনীর পাহারায় অবস্থান করছে এবং তাদের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অ`স্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে। এমন প্রচারণায় সেনাবাহিনীর নিয়মিত উপস্থিতি ও টহলের ঘটনাকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের প্রতি সামরিক সহায়তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
দাবিটিতে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সদস্যদের নারেইছড়ি এলাকায় অবস্থানের কথা স্থানীয় সূত্রের বরাতে উল্লেখ করা হলেও, সেনাবাহিনী তাদের পাহারা দিয়েছে কিংবা অ`স্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে—এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। অর্থাৎ, একটি এলাকায় স`শ`স্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের উপস্থিতি এবং একই এলাকায় সেনাবাহিনীর নিয়মিত নিরাপত্তা টহলকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে সেনাবাহিনীর সহযোগিতার দাবি তৈরি করা হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, সাপছড়ি ইউনিয়নের নারেইছড়ি ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক স`শ`স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও পারস্পরিক সংঘাতের ঘটনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল বা অবস্থান থাকা স্বাভাবিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমের অংশ। কোনো এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেই সেখানে অবস্থানরত কোনো স`শ`স্ত্র গোষ্ঠীকে সেনাবাহিনী পাহারা বা সহযোগিতা করছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তথ্যগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সুতরাং, নারেইছড়িতে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সদস্যদের অবস্থানের দাবিকে সেনাবাহিনীর পাহারা, অ`স্ত্র ও গোলাবারুদ সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক মাধ্যমে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনীর নিয়মিত নিরাপত্তামূলক উপস্থিতিকে একটি স`শ`স্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সহযোগিতা হিসেবে উপস্থাপন করে প্রচারিত এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।

