সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “মিছিলের ভয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছেন”—এমন একটি দাবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রচারিত পোস্টে দাবি করা হয়, গুলশানে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি ‘বিশাল মিছিল’ বের হওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং প্রধানমন্ত্রীর সেনানিবাসে যাওয়ার প্রকৃত কারণকে আড়াল করে ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রচারিত দাবিটি প্রবীর কুমার সরকার নামে এক ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সিএমএইচ সফরকে গুলশানের মিছিলের সঙ্গে যুক্ত করে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়ার দাবি করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে তিনি কোনো মিছিলের ভয়ে সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
ঘটনার প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা যায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় গুরুতর দুর্ঘটনায় ক্যাপ্টেন মির্জা মহিউদ্দিনসহ কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হন। আহত ক্যাপ্টেন মির্জা মহিউদ্দিনের চিকিৎসা চলাকালে গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তাঁকে দেখতে যান এবং তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রীর সিএমএইচে যাওয়ার সঙ্গে গুলশানে কোনো মিছিলের ভয়ে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়ার দাবির নির্ভরযোগ্য কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। বরং আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, “মিছিলের ভয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছেন”—এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, তাঁর সিএমএইচ সফরের কারণ হিসেবে আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত সংবাদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সরকারি সফরকে ‘মিছিলের ভয়ে সেনানিবাসে আশ্রয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার।

