সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেনা সদর দপ্তরে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলন ঠেকাতে সেনাবাহিনী মাঠে নামবে না!—এমন দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। পোস্টগুলোতে ‘সেনা সদর দপ্তরের উত্তেজনা’ শিরোনাম ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে প্রচারিত দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত পোস্টগুলোতে সেনা সদর দপ্তরে কী ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, কারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিংবা সেনাবাহিনীকে মাঠে না নামানোর নির্দেশনা কে দিয়েছেন—এসব বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি দাবির সমর্থনে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি, সেনাবাহিনীর বক্তব্য কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়নি।
সেনাবাহিনীর মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে এ ধরনের দাবি প্রচারের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্র থাকা জরুরি। কিন্তু আলোচিত পোস্টগুলোতে কোনো সূত্র ছাড়াই সেনা সদর দপ্তরে উত্তেজনা এবং সেনাবাহিনীর কথিত অবস্থানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে এসব পোস্টের বক্তব্য যাচাইযোগ্য কোনো তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
বিশেষ করে, শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়ে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনরত শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ভুল ধারণা ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই সেনা সদর দপ্তরের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে এমন বক্তব্য প্রচার দায়িত্বশীল তথ্যচর্চার পরিপন্থী।
সুতরাং, সেনা সদর দপ্তরে উত্তেজনা এবং শ্রমিকদের আন্দোলনে সেনাবাহিনী মাঠে না নামার দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট সূত্র ছাড়া এসব দাবিকে সত্য হিসেবে প্রচার করা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার।

