সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে বাসায় ফেরার পথে পুলিশের গু`লিতে মৃ`ত্যুশয্যায় বিকেএসপি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী” শীর্ষক দাবি প্রচার করা হচ্ছে। প্রচারিত পোস্টগুলোতে বিকেএসপি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান সামির ছবি, স্কুলড্রেস ও পরিচয়পত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী পুলিশের গু`লিতে আহত হননি। শ্রমিক আন্দোলনের সময় ইটের আঘাতে তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা ইউসুফ রানা।
আলোচিত পোস্টে সংযুক্ত শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্রে থাকা মুঠোফোন নম্বরের সূত্র ধরে তাঁর বাবা ইউসুফ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে পেছন থেকে ছোড়া একটি ইটের টুকরার আঘাতে তাঁর ছেলে আহত হয়। এতে সামির মাথার পেছনে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। তবে সে পুলিশের গু‘লিতে আহত হয়নি। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি সামির বর্তমান অবস্থার ছবি ও চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রও পাঠান। ব্যবস্থাপত্রেও ইটের আঘাতে আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের সময় গাজীপুরে স্কুলশিক্ষার্থী নুরুজ্জামান সামি আ‘হ‘ত হলেও তাঁর আঘাতের কারণ পুলিশের গু‘লি নয়, বরং ইটের আঘাত। শিশুটির বাবার বক্তব্য ও চিকিৎসার নথি থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। এসব কর্মসূচিতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সুতরাং, গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় পুলিশের গু‘লিতে স্কুলশিক্ষার্থী নুরুজ্জামান সামি আহত বা নি‘হ‘ত হওয়ার দাবিটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

