ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলছে। এরই মধ্যে গত ১ নভেম্বর রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের গেজেট’ শিরোনামে নতুন বেতন কাঠামোর একটি তালিকা প্রচার করা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত তালিকাটি ভুয়া। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন হলেও এখনো বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আলোচিত তালিকাটির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম তালিকাটিকে ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছেন। একই তথ্য জানিয়েছেন সদ্য গঠিত মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। তিনি জানান, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রথম আলোর ১ নভেম্বরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পর বোর্ডের চেয়ারম্যান সভা আহ্বান করবেন। ওই সভায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মজুরি প্রস্তাব চাওয়া হবে। প্রস্তাব জমা হওয়ার পর সদস্যরা আলোচনা করে নতুন মজুরি কাঠামোর খসড়া তৈরি করবেন। পরবর্তী সময়ে সেই খসড়া চূড়ান্ত করে শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করার পরই নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হবে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, কোনো শিল্প খাতের মজুরি পুনর্নির্ধারণে সরকারের নির্দেশ পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ করার বিধান রয়েছে। তবে বোর্ডের অনুরোধে এ সময় বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।
মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মজুরি বোর্ডের এখনো প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। সভায় আলোচনা ও প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থাৎ, নতুন মজুরি বোর্ড গঠিত হলেও পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বোর্ডের প্রথম সভা ও পরবর্তী আলোচনা শুরুর আগেই মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে নতুন বেতনের তালিকা প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং, পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তালিকাটি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।

