
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কিছু পোস্টে আরও দাবি করা হচ্ছে, এটি বিএনপি সরকারের পদত্যাগের সূচনা এবং শিক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। এসব দাবিসহ বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন পদত্যাগ করেছেন— এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ নেই। প্রকৃতপক্ষে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইবিহীন ও ভিত্তিহীন একটি দাবিকে সত্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধান, সরকারি সূত্র, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দেশের মূলধারার গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। কোথাও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া কিংবা তা গ্রহণের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো ঘোষণা বা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নামে একের পর এক যাচাইবিহীন দাবি, ভুয়া ফটোকার্ড ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। আলোচিত দাবিটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, যেখানে কোনো প্রমাণ ছাড়াই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের গুজব ছড়ানো হয়েছে।
সুতরাং, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন’— এমন দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

