সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে একটি বিদ্যুৎ অফিসে ভা‘ঙ‘চুরের ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হয়, ২৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ঢাকার আফতাবনগরের বিদ্যুৎ অফিসে স্থানীয়রা ভা‘ঙ‘চুর চালিয়েছেন। ভিডিওটির সঙ্গে ‘আফতাবনগর’, ‘ঢাকা পাওয়ার’সহ বিভিন্ন শব্দ ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ঘটনাটিকে ঢাকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে আফতাবনগরের সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। ভিডিওতে দেখা একই দৃশ্য এর আগেও অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেগুলোতে ঘটনাস্থল হিসেবে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিওটির দৃশ্যের সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি ভিডিও গত ১১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে আফতাবগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করা হয়। একই ঘটনার ভিডিও ১০ ও ১১ আগস্ট আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় প্রকাশিত হয়।
ঘটনাটির বিষয়ে ১৩ আগস্ট প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বলা হয়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ১০ আগস্ট স্থানীয় একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হা‘ম‘লা ও ভা‘ঙ‘চুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল, সময় ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ঢাকার আফতাবনগরের সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি। বরং ভিডিওটির উৎস ও পূর্ববর্তী প্রচার যাচাই করে এটি দিনাজপুরের আফতাবগঞ্জে গত আগস্টে ঘটে যাওয়া ভা‘ঙ‘চুরের দৃশ্য বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
সুতরাং, দিনাজপুরের আফতাবগঞ্জের পুরোনো ভা‘ঙ‘চুরের ভিডিওকে ঢাকার আফতাবনগরে সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ অফিস ভা‘ঙ‘চুরের দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

