সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, চীন ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আসাফিলা, লংজু ও তাকসিং সার্কেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ভিডিওতে গিরিশ কালিয়াকে এমন বক্তব্য দিতে দেখা যায় যে, চীনা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রচারিত বক্তব্যটি তাঁর আসল বক্তব্য নয়; পুরোনো ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া অডিও সংযোজন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে ভিডিওতে থাকা এএনআইয়ের ওয়াটারমার্কের সূত্র ধরে ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত মূল ভিডিওটি পাওয়া যায়। সেখানে তৎকালীন মেজর জেনারেল গিরিশ কালিয়া জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারায় এক সংবাদ সম্মেলনে সীমান্তপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নিরাপত্তা অভিযান এবং কাশ্মীরের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। মূল ভিডিওর কোথাও অরুণাচল প্রদেশের ভূখণ্ড চীনের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেননি তিনি।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্টের প্রকাশিত ফ্যাক্টচেকে জানানো হয়, Aurigin AI-এর বিশ্লেষণে প্রচারিত অডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। Hiya AI Voice Detector-এ মানুষের স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মাত্র ৮ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। মেটার শনাক্তকরণ ব্যবস্থায়ও এআই-সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। পাশাপাশি ২৫ অক্টোবর ভারতীয় সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক ফ্যাক্টচেক অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিওটিকে ডিজিটালভাবে বিকৃত বলে শনাক্ত করা হয়।
সুতরাং, অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি এলাকা চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার কথা গিরিশ কালিয়া স্বীকার করেছেন—এমন দাবি করে প্রচারিত ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদিত। প্রকৃত ভিডিওতে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। ফলে প্রচারিত ভিডিওটি তাঁর প্রকৃত বক্তব্যের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং অরুণাচলের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত দাবির প্রমাণ হিসেবেও গ্রহণযোগ্য নয়।

