সম্প্রতি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্য কৃপেশ রায়কে জড়িয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। গত ২৬ অক্টোবর আরটিভির একটি প্রতিবেদনে তাঁকে সরাসরি ধর্ম অবমাননাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ফেসবুকে তাঁকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও সহিংসতার আহ্বান ছড়িয়ে পড়ে।
তবে তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, কৃপেশ রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে দায়ী করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, অভিযুক্ত পোস্টটি ছড়ানো ‘Kripash Ray’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিজের নয় বলে দাবি করেছেন কৃপেশ। এমনকি পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আগেই নিজের ও পরিবারের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খোলার অভিযোগে তাহিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তিনি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কৃপেশ রায়ের মূল ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নাম ‘B.P. Kripash Ray’। অন্যদিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠা ‘Kripash Ray’ নামের অ্যাকাউন্টটি আলাদা। কৃপেশের প্রতিবেশীরাও সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টটি তাঁর নয় বলে দাবি করেছেন। আরটিভির মূল প্রতিবেদনেও কৃপেশের অভিযোগ অস্বীকার ও জিডির তথ্য থাকলেও শিরোনামে তাঁকে সরাসরি দায়ী করা হয়। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যে তাঁকে হত্যার আহ্বানসহ সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ানোর তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে গত ২৭ অক্টোবর ধর্ম অবমাননার মামলায় কৃপেশ রায়কে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্রকৃত মালিক শনাক্তে তদন্ত চলছে। ফলে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
অর্থাৎ, ফেসবুক অ্যাকাউন্টটির প্রকৃত পরিচালনাকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই কৃপেশ রায়কে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় সরাসরি দায়ী করে প্রচার করা হয়েছে। অভিযোগটি যেমন এখনো প্রমাণিত নয়, তেমনি অ্যাকাউন্টটি ভুয়া বলে কৃপেশের দাবিও তদন্তসাপেক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উসকানি দেওয়া বিভ্রান্তিকর ও বিপজ্জনক।

