সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম নর্থ-ইস্ট নিউজ, সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরও বেশ কিছু ভুঁইফোড় পেজ এনএসআই মহাপরিচালকের দিল্লি সফরকে ঘিরে গোপন সমঝোতার প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে একসূত্রে জুড়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কথিত গোপন সমঝোতার বয়ান তৈরি করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দ্য ডেইলি স্টার-এর ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনএসআই মহাপরিচালক ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম দক্ষিণ এশীয় স‘ন্ত্রা‘সবাদবিরোধী সম্মেলনে অংশ নিতে দিল্লি গেছেন। এটি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বহুপাক্ষিক সম্মেলন। অর্থাৎ, তাঁর সফরের ঘোষিত উদ্দেশ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তাবিষয়ক সম্মেলনে অংশগ্রহণ।
অথচ নর্থ-ইস্ট নিউজ এনএসআই প্রধানের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধানের বৈঠকের দাবি তুলে ধরেছে, যার পক্ষে কোনো প্রকাশ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে তারেক রহমানের জাপান সফর, মাতারবাড়ী বন্দরের অর্থায়ন এবং ভারতের সম্ভাব্য ট্রানজিট করিডরের প্রসঙ্গকে এনএসআই প্রধানের সফরের সঙ্গে জুড়ে গোপন সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাস্তব ঘটনাকে ব্যবহার করে অসমর্থিত দাবির এমন সংযোগই প্রোপাগান্ডার মূল কৌশল, যেখানে তথ্যের চেয়ে ঘটনাগুলোর সাজানো উপস্থাপন পাঠককে নির্দিষ্ট ধারণার দিকে ঠেলে দেয়।
অন্যদিকে, নবনীতা চৌধুরী ‘দিল্লিতে বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রধান! শেখ হাসিনা ফেরার আলাপ?’ শিরোনামে পোস্ট করে সফরটিকে রাজনৈতিক জল্পনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরও কিছু ভুঁইফোড় পেজেও একই ধরনের বয়ান ছড়ানো হচ্ছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণের তথ্যকে আড়ালে রেখে ‘র’-এর সঙ্গে বৈঠক ও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ সামনে আনার ফলে সফরের প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
সুতরাং, এনএসআই মহাপরিচালকের দিল্লি সফরকে ঘিরে গোপন সমঝোতার প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হলেও, কথিত বৈঠক বা রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স‘ন্ত্রা‘সবাদবিরোধী সম্মেলনে অংশগ্রহণের প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল করে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে জুড়ে এবং অসমর্থিত দাবিকে সামনে এনে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

