সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সারওয়ার ফরিদের দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে তাঁর সফরকে আকস্মিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হিসেবে উপস্থাপন করে দাবি করা হয়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গোপন আলোচনা চলছে।
তবে তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, এনএসআই প্রধান গত ২৫ অক্টোবর নয়াদিল্লি যান ‘অষ্টম দক্ষিণ এশীয় সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনে’ অংশ নিতে। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের একক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নয়, বরং বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্মেলন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল ও সংবাদ প্রতিদিন এনএসআই প্রধানের সফরকে ‘আচমকা’ কিংবা ‘ঝটিকা সফর’ হিসেবে উপস্থাপন করে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার কথা প্রচার করে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন ভাষ্যেও একই দাবি উঠে আসে। তবে প্রচারিত প্রতিবেদনে হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট বৈঠক, সমঝোতা কিংবা আলোচনার পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
অন্যদিকে দ্য ডেইলি স্টার, ডেইলি সান এবং ভারতের দ্য পাইওনিয়ারের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, এনএসআই প্রধানের দিল্লি সফরের উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনে অংশগ্রহণ। সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল সন্ত্রাসবাদ দমন, মাদক পাচার, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। প্রকাশিত সম্মেলন-সংক্রান্ত তথ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো নির্ধারিত আলোচনার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, এনএসআই প্রধানের পূর্বনির্ধারিত বহুপক্ষীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণকে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনসংক্রান্ত গোপন আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয়েছে। এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

