সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে, যার আওতায় আগামী পাঁচ বছর প্রতিবছর এক লাখ করে মোট পাঁচ লাখ বাংলাদেশি কর্মী জাপানে যাবেন। গত ২৭ অক্টোবর ‘Colonel Otaku Gatekeeper’ নামের জাপানি পরিচয়ধারী একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দাবিটি প্রচার করা হয়। সেখানে আরও দাবি করা হয়, এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে জাপানের মুসলিম জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্টে একই দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
তবে তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক লাখ কর্মী নেওয়ার কোনো চুক্তি করেনি জাপান সরকার। গত ২৯ অক্টোবর জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সেক্রেটারি তোশিহিরো কিতামুরা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকেও এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়নি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসে জাপানের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছিল। অর্থাৎ, পাঁচ বছরে মোট এক লাখ কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাকে বিকৃত করে প্রতিবছর এক লাখ কর্মী নিয়োগের নিশ্চিত চুক্তি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক সহযোগিতা স্মারকের প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর এবং তা আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেখানে বছরে এক লাখ কর্মী নিয়োগের কোনো বাধ্যতামূলক সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি।
এ ছাড়া জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিবরণেও এমন কোনো চুক্তির উল্লেখ নেই। সেখানে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ফলে পাঁচ লাখ বাংলাদেশির জাপানে বসবাস এবং দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার দাবিরও কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।
অর্থাৎ, পুরোনো কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ও নতুন সহযোগিতা চুক্তির তথ্য বিকৃত করে জাপান প্রতিবছর এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার চুক্তি করেছে বলে অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। জাপান সরকার নিজেই দাবিটি নাকচ করেছে। ফলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

