Google search engine
HomePoliticsতাহসিফের মৃত্যু ঘিরে ‘স্নাইপার রহস্য’, নবনীতার আলোচনায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপ্রমাণিত যোগসূত্র

তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে ‘স্নাইপার রহস্য’, নবনীতার আলোচনায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপ্রমাণিত যোগসূত্র

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরীর একটি ইউটিউব ভিডিওতে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও, সামরিক স্নাইপার এবং গোপন তথ্য জানার সম্ভাবনাকে একসঙ্গে আলোচনায় আনা হয়েছে। ‘হাসিনার ভিডিও নিয়ে কী জানতেন তাহসিফ? স্নাইপার নিয়ে সন্দেহ কেন?’ শিরোনামের ভিডিওতে এমন সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে যে, তাহসিফ ও আরেক সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা রিফাত আশরাফী হয়তো অত্যন্ত স্পর্শকাতর কোনো সামরিক অভিযানের তথ্য জেনে গিয়েছিলেন। তবে এসব বিষয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও প্রচারের সঙ্গে তাহসিফের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন দাবি প্রচারিত হয়েছিল। তবে মৃত্যুর আগে দেওয়া এক পডকাস্টে তাহসিফ নিজেই এসব অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভিডিও প্রকাশের অভিযোগের কারণে তাঁকে বিমানবাহিনী ছাড়তে হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করলেও সেটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেননি। অন্যদিকে ২০২৫ সালের আগস্টে আইএসপিআর জানায়, তাহসিফ ও রিফাতকে প্রচলিত সামরিক বিধি অনুযায়ী অবসর দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের অবসরের সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে গত ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে বেশ কিছু অসংগতি সামনে এসেছে। তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ থাকা আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যে পরিবর্তন, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং পরিবারের উত্থাপিত প্রশ্নগুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে তদন্তকারীরা এখনো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করেননি। এ অবস্থায় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও অথবা কথিত গোপন সামরিক তথ্য জানার কারণে তাহসিফের মৃত্যু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৬৬ শতাংশ মৃত্যু সামরিক স্নাইপারের গুলিতে হয়েছে বলে উল্লেখ নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের পরীক্ষা করা ১৩০টি মৃত্যুর ঘটনার ৬৬ শতাংশে সামরিক রাইফেলের গুলি ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহার হয়েছে বলেই সেগুলো স্নাইপার রাইফেল থেকে ছোড়া হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

অর্থাৎ, তাহসিফের মৃত্যু, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও এবং কথিত স্নাইপার অভিযানের মধ্যে কোনো প্রমাণিত যোগসূত্র নেই। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলমান থাকলেও অনুমাননির্ভর বিভিন্ন ঘটনাকে একসঙ্গে উপস্থাপন করে গোপন সামরিক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এসব সম্ভাবনাকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা বিভ্রান্তিকর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular