দেশের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ বন্ধ হয়ে গেছে—এমন খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, গ্রুপটির একটি পুরোনো ইউনিটের ভবন ভেঙে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগকে পুরো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের খবর হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। বাস্তবে একটি ইউনিটের পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা এবং পুরো শিল্পগ্রুপ বন্ধ হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের অধীনে মোট ৯টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে গ্রুপের প্রথম ও পুরোনো ইউনিট ‘প্যাসিফিক জিন্স’-এর ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে পুরোনো হয়ে যাওয়ায় সেটি ভেঙে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বেপজার নিয়ম ও রাজউকের অনুমোদনসাপেক্ষে এই পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, এটি একটি নির্দিষ্ট ইউনিটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা, পুরো গ্রুপের উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নয়।
এদিকে, ওই ইউনিটে কর্মরত প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রুপের অন্য ইউনিটগুলোতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে তাঁরা প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় শ্রম আইন ও প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী তাঁদের পাওনা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিশোধ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে জানানো হয়েছে। এই কর্মী বিদায়ের বিষয়টিকেও পুরো গ্রুপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপটকে আড়াল করে।
অন্যদিকে, গ্রুপটির বাকি ইউনিটগুলো স্বাভাবিকভাবে সচল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত বলেও দাবি করা হয়েছে। ফলে একটি ইউনিটের ভবন পুনর্নির্মাণ ও সেখানে কর্মরত কর্মীদের বিদায় প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পুরো প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ বন্ধের খবর প্রচার বাস্তবতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না।
সুতরাং, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের একটি পুরোনো ইউনিটের ভবন পুনর্নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিদায় প্রক্রিয়াকে পুরো শিল্পগ্রুপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

