সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিন শি/শু/র মর/দে/হের ছ/বি ও ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, বগুড়ায় আওয়ামী লীগ-সমর্থক একটি পরিবারের তিন শি/শু/কে বিএনপির ‘স-ন্ত্রা-সী বাহিনী’ হ`ত্যা করেছে। বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে একই ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সহিং/সতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে বগুড়ায় কোনো রাজনৈতিক হ`ত্যা/কাণ্ডের সম্পর্ক নেই। একই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন শি/শু/র মৃ`/ত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবির সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার স্থান ও প্রেক্ষাপটের মিল নেই।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে শরাফত আলী নামে এক ব্যক্তি তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করেন। এতে মাওয়া আক্তার (১০), শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২) নামের তিন শি/শু/র মৃ`/ত্যু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শরাফত আলীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাটির বিষয়ে তাহিরপুর থানার পুলিশও তথ্য দিয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন শি/শু/র মর/দে/হ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয় এবং ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছিল। অর্থাৎ, ঘটনাটি সুনামগঞ্জের একটি পারিবারিক বিষপানের ঘটনা হিসেবে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে; বগুড়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে তিন শি/শু/কে হ/ত্যা/র কোনো তথ্য এসব প্রতিবেদনে নেই।
অন্যদিকে, আলোচিত দাবিতে ব্যবহৃত ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ঘটনার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। ফলে একই ঘটনার ছবি ও ভিডিওকে ভিন্ন স্থান ও ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে।
বিশেষ করে, বগুড়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পরিবারের তিন শি/শুকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হ`/ত্যার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, প্রচারিত দৃশ্যের উৎস হিসেবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ঘটনাটিই শনাক্ত করা যাচ্ছে।
সুতরাং, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বাবার সঙ্গে বিষপানের ঘটনায় তিন শি/শুর মৃ`/ত্যুর ছবি ও ভিডিওকে বগুড়ায় বিএনপির হাতে আওয়ামী লীগ-সমর্থক পরিবারের তিন শি/শুর রাজনৈতিক হ`ত্যা/কাণ্ডের দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে; দাবিটি বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর।

