সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি মন্দিরের ত্রিশূল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাবি করা হচ্ছে যে, এই চুরির সঙ্গে একজন মুসলিম যুবক জড়িত। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও প্রচার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে এই দাবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে প্রচারিত এই দাবি এবং আটক ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
ফ্যাক্ট রিভিউ-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের ওই মন্দিরে ত্রিশূল চুরির ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যাকে আটক করেছে, তিনি কোনো মুসলিম যুবক নন। পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চুরির অভিযোগে আটককৃত ওই যুবক নিজেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এটি মূলত একটি সাধারণ চুরির ঘটনা, যার সঙ্গে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় বিদ্বেষের সম্পর্ক নেই। একটি সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ভিন্ন রূপ দিয়ে এবং ভিন্ন ধর্মের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিছক গুজব রটানো হয়েছে।
অর্থাৎ, সীতাকুণ্ডে মন্দিরের ত্রিশূল চুরির ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীর পরিচয় আড়াল করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন মুসলিম যুবককে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মূলত জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যেই এই মিথ্যা তথ্যটি অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে।
সুতরাং, সীতাকুণ্ডে মন্দিরের ত্রিশূল চুরির ঘটনায় মুসলিম যুবক আটকের দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট; এই ঘটনায় আটককৃত ব্যক্তি মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

