সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. তাসনিম জারার নাম, ছবি এবং স্বাক্ষরযুক্ত প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে ‘এলিট ফরএভার’ ও ‘এলিট পিউর’ নামের ঔষধ বিক্রির একাধিক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। মূলত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র চিকিৎসকের ভুয়া পরিচিতি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই স্ক্যাম বা প্রতারণা করছে।
ভিডিও ও পেজের সত্যতা: ফেসবুকে কমপক্ষে ৮টি ভিন্ন পেজ থেকে ১৯টির মতো ভুয়া বিজ্ঞাপন চালু করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ভিডিওটি মূলত ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর ডা. জারার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তিনি পাইলসের ঘরোয়া সমাধান নিয়ে কথা বলেছিলেন।
ভুয়া প্রেসক্রিপশন ও বিএসটিআই দাবি: পণ্য ডেলিভারির সময় ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য ডা. জারার নাম ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি ভুয়া প্রেসক্রিপশন পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া, পণ্যগুলোকে বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত দাবি করা হলেও বিএসটিআই-এর ডাটাবেজে এগুলোর কোনো বৈধ সিএম (CM) লাইসেন্স নেই। প্রতারকরা কেবল পণ্যের ‘মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদপত্র’ ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।
প্রকৃত চিকিৎসকের বক্তব্য: ডা. তাসনিম জারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসক্রিপশনে ব্যবহৃত স্বাক্ষরটি তাঁর নয় এবং এসব পণ্যের সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। তিনি সাধারণ মানুষকে অনলাইনে ঔষধ কেনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে এবং ফেসবুক পেজ ভেরিফায়েড কিনা তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসকদের নাম ভাঙিয়ে অনলাইনে এ ধরনের ভুয়া ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থের মারাত্মক ক্ষতি করা হচ্ছে। সুতরাং, ডা. তাসনিম জারার পরামর্শে ‘এলিট ফরএভার’ বা ‘এলিট পিউর’ পণ্য বিক্রির দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

