
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘২২০ কোটি টাকা খরচে কুকুর হলেন জাপানি যুবক’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটিতে এক ব্যক্তিকে কুকুরের আকৃতির শরীর নিয়ে চলাফেরা করতে দেখা যায়। পাশাপাশি, ভিডিওটির বিভিন্ন দৃশ্যের স্ক্রিনশট ব্যবহার করেও একই দাবি ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জাপানি ব্যক্তি টোকো সার্জারির মাধ্যমে কিংবা বাস্তবে স্থায়ীভাবে কুকুরে রূপান্তরিত হননি। প্রকৃতপক্ষে, তিনি কুকুরের আদলে তৈরি একটি বিশেষ কস্টিউম বা পোশাক ব্যবহার করেছিলেন। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচিত ভিডিওটি বাস্তব কোনো ঘটনার দৃশ্য নয়; এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রথমে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড ও রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়। তবে জাপানি ওই ব্যক্তি ২২০ কোটি টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কুকুরে রূপান্তরিত হয়েছেন—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ভিডিওটির দৃশ্য ও অডিও বিভিন্ন এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হলে ভিডিওটি এআই-নির্মিত হওয়ার শক্তিশালী ইঙ্গিত পাওয়া যায়। Hive Detect-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
এছাড়া, বিষয়টি নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানও অনুসন্ধান করেছে। The Quint-এর ফ্যাক্ট-চেক এবং BOOM-এর ফ্যাক্ট-চেক-এও ভাইরাল ভিডিওটিকে এআই-তৈরি বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, টোকো নামে পরিচিত ওই জাপানি ব্যক্তি কুকুরের মতো দেখতে বিশেষ পোশাক তৈরির জন্য পরিচিত। অর্থাৎ, তার কুকুরের মতো দেখানোর বিষয়টি কোনো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্থায়ী শারীরিক রূপান্তর নয়; বরং বিশেষভাবে তৈরি কস্টিউম ব্যবহারের ফল।

