
গত ১৭ আগস্ট অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে পুলিশ আ‘ট‘ক করে। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুমের নামে একটি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে।
প্রচারিত ফটোকার্ডে নুসরাত তাবাসসুমকে উদ্ধৃত করে বলা হচ্ছে, “জুলাই যো‘দ্ধা মাহাদী আমার সন্তানের মতো, ওকে গ্রে‘ফ‘তা‘র করা মানে আমাকে গ্রে‘ফ‘তা‘র করা।”
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাহদী হাসানকে আটকের ঘটনায় নুসরাত তাবাসসুম এমন কোনো মন্তব্য করেননি। দাবিটির পক্ষে প্রচারিত ফটোকার্ডে কোনো সংবাদসূত্র, বক্তব্যের স্থান-কাল কিংবা মূল ভিডিওর উল্লেখ নেই। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করেও কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে তার এমন বক্তব্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ফটোকার্ডটির উৎস অনুসন্ধান করে দেখা যায়, এটি একটি সার্কাজমধর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজের পোস্ট থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। পেজটির অন্যান্য পোস্টের ধরন পর্যালোচনায়ও ব্যঙ্গাত্মক ও কাল্পনিক বক্তব্যকে কনটেন্ট হিসেবে প্রকাশের প্রবণতা দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ওই পোস্টের ব্যঙ্গাত্মক প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে বক্তব্যটিকে নুসরাত তাবাসসুমের প্রকৃত মন্তব্য হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
এছাড়া, নুসরাত তাবাসসুমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও মাহদী হাসানের আ‘ট‘কের ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করেও আলোচিত মন্তব্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, মাহদী হাসানের আটকের সত্য ঘটনা ব্যবহার করে একটি সার্কাজমধর্মী পেজে প্রকাশিত কাল্পনিক বক্তব্যকে নুসরাত তাবাসসুমের প্রকৃত মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

