
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধ`র্ষ`ণ ও হ`ত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী মুসলিম। এ দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পোস্টে ঘটনাটিকে বাংলাদেশি মুসলিমদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত দাবিটির কোনো ভিত্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে, বারুইপুরে আলোচিত ধ`র্ষ`ণ ও হ`ত্যাকাণ্ডে গ্রে`প্তা`র ও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সবাই ভারতের নাগরিক এবং তাদের পরিচয় ভারতীয় হিন্দু হিসেবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুলিশ এ ঘটনায় প্রভাস মণ্ডল, আনন্দ সরদার এবং দিবাকর সরদারকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। কোথাও তাদের বাংলাদেশি নাগরিক বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তীতে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের অভিযানে নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়।
এছাড়া, প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধানেও ভারতীয় পুলিশ, প্রশাসন কিংবা কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে অভিযুক্তদের বাংলাদেশি মুসলিম হওয়ার পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, তাদের জাতীয়তা ও ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল নেই।
সুতরাং, পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ধ`র্ষ`ণ ও হ`ত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের বাংলাদেশি মুসলিম দাবি করে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, অভিযুক্তরা ভারতীয় হিন্দু।

