
সম্প্রতি, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সাবেক উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নাকি তারেক রহমানেরই ছিল। একই দাবি আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাক্টিভিস্টরাও ব্যাপকভাবে প্রচার করছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা বলেননি। তিনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিদেশে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর, মৃত্যুর আগে পুনরায় বিদেশে নেওয়া হবে কি না—সে সময়কার পারিবারিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি বাংলাদেশের চিকিৎসকদের মানবিক সেবা ও নিবিড় পরিচর্যার প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, জীবনের শেষ পর্যায়ে পুনরায় বিদেশে নেওয়া হবে কি না—এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তার বক্তব্যের কোথাও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি নিজের সিদ্ধান্ত ছিল—এমন কোনো বক্তব্য নেই।
অর্থাৎ, বক্তব্যের একটি অংশকে মূল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়। বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, তিনি অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার ঘটনাকে নয়, বরং ২০২৪ সালের পরবর্তী চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গই উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করে ভিন্ন অর্থে প্রচার করছেন ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সাবেক উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনসহ আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন ব্যক্তি ও পেজ; যা বিভ্রান্তিকর।

