সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাগুরার শালিখা উপজেলার শিক্ষার্থীদের একটি উপবৃত্তির তালিকা ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, তালিকায় শুধুমাত্র হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আরও দাবি করা হয়েছে, ‘বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকায় প্রকাশিত উপবৃত্তির তালিকায় একজন মুসলিম শিক্ষার্থীও নেই।’ এমন দাবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে, ভাইরাল হওয়া তালিকাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা নয়; এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত উপবৃত্তির তালিকা।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তালিকায় থাকা ‘বিশ্বাস’, ‘রায়’, ‘মণ্ডল’ প্রভৃতি উপাধি দেখে অনেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছেন। অথচ মাগুরার শালিখা উপজেলায় রাজবংশী, বাগদীসহ একাধিক সরকারি স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা ‘বিশ্বাস’, ‘রায়’ ও ‘মণ্ডল’ উপাধি ব্যবহার করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যেও বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন। কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দরিদ্র ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয় এবং উপকারভোগীদের তালিকা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত করে।
বিষয়টি নিয়ে মাগুরার শালিখা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তালিকাটি ছড়ানো হয়েছে সেটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের বিশেষ উপবৃত্তির তালিকা। তিনি আরও জানান, ভাইরাল তালিকায় আংশিক নাম প্রকাশ করা হলেও প্রকৃত তালিকায় আরও উপকারভোগী রয়েছেন এবং কোনো যোগ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া হয়নি।
সুতরাং, ‘শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীরাই উপবৃত্তি পেয়েছে’ কিংবা ‘মুসলিম শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে’—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে, ভাইরাল তালিকাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নয়; এটি সরকারি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা উপবৃত্তির তালিকা।

