সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী সিনথিয়া জাহিন আয়েশা–র ছবি সংযুক্ত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছেন— “বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানই জুলাইযোদ্ধাদের বেশি সম্মান করে।” সংবেদনশীল এই দাবিটি দ্রুত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ব্যবহারকারী সেটিকে সত্য বলে প্রচার করতে থাকেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিনথিয়া জাহিন আয়েশা এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, আলোচিত দাবিটির উৎপত্তি একটি স্যাটায়ারধর্মী ফেসবুক পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে, যা পরবর্তীতে বাস্তব বক্তব্য হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালানো হলেও মূলধারার কোনো গণমাধ্যম, নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র কিংবা সিনথিয়া জাহিন আয়েশার কোনো বক্তব্য, সাক্ষাৎকার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে এ ধরনের মন্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জনপরিচিত একজন আন্দোলনকর্মী এমন মন্তব্য করলে তা স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হতো। কিন্তু এমন কোনো তথ্যের অস্তিত্ব মেলেনি।
বরং অনুসন্ধানে দেখা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে দৈনিক নয়া দিগন্ত-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও প্রকৃত পরিবর্তনের প্রত্যাশায় রাজপথে নেমেছিলেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তার প্রকাশ্য বক্তব্যের কোথাও আলোচিত দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, “বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানই জুলাইযোদ্ধাদের বেশি সম্মান করে” শীর্ষক মন্তব্যটি সিনথিয়া জাহিন আয়েশা করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট এবং একটি স্যাটায়ার পোস্টকে বাস্তব তথ্য হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি হওয়া অপপ্রচার।

