সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নিউজ ফটোকার্ডের আদলে তৈরি ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “তারেকের উচিত এখনই দূরপাল্লার হেলিকপ্টার বুকিং করে রাখা।”
আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শেখ হাসিনার নামে প্রচারিত এই উক্তিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। এটি মূলত একটি স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট, যা কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী যদি দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন কোনো মন্তব্য করে থাকতেন, তবে তা দেশি-বিদেশি প্রথম সারির গণমাধ্যমে (যেমন: বিবিসি, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার) প্রধান সংবাদ বা হেডলাইন হিসেবে প্রচারিত হতো। কিন্তু আমাদের নিবিড় অনুসন্ধানে কোনো নির্ভরযোগ্য পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল বা ওয়েব পোর্টালে এমন কোনো বিবৃতির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডটি ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এতে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের লোগো বা নির্দিষ্ট টাইপোগ্রাফি নেই। বরং, ছবির নিচের বাম কোণে তারেক রহমানের ছবির ওপর “Faisal Ahmed” নামের একটি অস্পষ্ট জলছাপ লক্ষ্য করা যায়। এর থেকে এটি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটি কোনো সংবাদমাধ্যমের কাজ নয়, বরং ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রাফিক্স সফটওয়্যার ব্যবহার করে তৈরি করা একটি এডিটেড কার্ড।
এই বানোয়াট উক্তিটি মূলত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি। সেদিন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা নিজেই সামরিক হেলিকপ্টারে করে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। সেই ঘটনা থেকে “হেলিকপ্টার” শব্দটি একটি রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই উক্তিটি মূলত সেই প্রতীককে ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ডার্ক হিউমার বা স্যাটায়ার, যা অনেকেই সত্য বলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
এই ধরনের উক্তির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। কারণ, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান দেশে ফিরে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। সুতরাং, বাস্তবতার নিরিখেও এই মন্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
শেখ হাসিনার নামে প্রচারিত “হেলিকপ্টার বুকিং” সংক্রান্ত এই উক্তিটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা একটি গুজব এবং ভুয়া তথ্য । সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে একটি স্যাটায়ারমূলক ছবিকে খবরের আদলে প্রচার করা হচ্ছে।

