
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীতাকুণ্ডের একটি জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে শ্রমিক নি`হ`তের ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে দাবি করা হচ্ছে, ‘বো-মা বি-স্ফো-র-ণে হিন্দু নি-হ-ত’। এ ধরনের প্রচারে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক স-হিং-সতা বা বো-মা বি-স্ফো-র-ণের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা তৈরি করা হচ্ছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে, সীতাকুণ্ডের একটি জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের মৃ-ত্যু হয়েছে। ঘটনাটি কোনো বো-মা বি-স্ফো-রণ নয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মোট ৯ জন শ্রমিক নি-হ-ত হন। নি-হ-তদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। অর্থাৎ, ঘটনাটিকে শুধু ‘হিন্দু নিহত’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নিহতদের সামগ্রিক পরিচয়—দুই ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তিকর বর্ণনা তৈরি হয়।
ঘটনার প্রকৃতি যাচাই করলে দেখা যায়, জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হন। কোথাও বোমা বি-স্ফো-র-ণ ঘটেছে বা বিস্ফোরণের কারণে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফলে একটি শিল্পদুর্ঘটনায় প্রা-ণহানির ঘটনাকে ‘বোমা বি-স্ফো-র-ণে হিন্দু নি-হ-ত’ হিসেবে উপস্থাপন করা মূল ঘটনার কারণ ও প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করে দেয়। বিশেষ করে নি-হ-তদের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
সুতরাং, সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনায় শ্রমিক নি-হ-তের ঘটনাকে ‘বো-মা বি-স্ফো-র-ণে হিন্দু নি-হ-ত’ হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

