
সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এসব পোস্টের মধ্যে এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে তা শিক্ষাব্যবস্থায় দলীয়করণ ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি করবে এবং সিদ্ধান্তটি বাতিল করা উচিত।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ভূমিকা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা ও পর্যালোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের বর্তমান প্রক্রিয়া ও এর কার্যকারিতা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা চলছে। নিয়োগব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে আলোচনার বিষয়বস্তুকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয়। একটি মহল এসব আলোচনা ও প্রস্তাবকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে বা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে—এমন প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলমান থাকলেও কোনো প্রস্তাব বা আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই। ফলে আলোচনার বিষয়কে সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করে বিরোধিতা বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা মূল বিষয়টির বাস্তব অবস্থাকে প্রতিফলিত করে না।
সুতরাং, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে বা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে—এমন প্রচারণা বিভ্রান্তিকর। শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আর সেই আলোচনাকেই একটি মহল গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।

