সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের হা`ম`লায় এক হিন্দু নারী আক্রান্ত হয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী ঘরের দরজা খুলতে গেলে সাদা পোশাক ও টুপি পরা এবং নীল টি-শার্ট পরা দুই ব্যক্তি দ্রুত ঘরে প্রবেশ করে তার ওপর হা`ম`লা করেন।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওটির দৃশ্য ও এতে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে ২০ আগস্ট প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে একই পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তির ছবি পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজের ব্যক্তিদের পোশাক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে।
প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ঘটনাটি কোনো সাম্প্রদায়িক হা`ম`লার নয়। ১৯ আগস্ট ফেনী শহরের মহিপালের মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির রেহান ম্যানশনে এক প্রবাসী প্রকৌশলীর বাসায় ডাকাতির সময় ওই সিসিটিভি ফুটেজ ধারণ করা হয়। ডাকাতির ঘটনায় বাসার বাসিন্দা শাহানা আক্তারকে জিম্মি করে হা`ম`লা করা হয় এবং পরে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পরিবারের পরিচয়ও যাচাই করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে থাকা ভুক্তভোগী শাহানা আক্তার ওই মুসলিম পরিবারের সদস্য। ফলে তাকে হিন্দু নারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে প্রচার করার দাবিটির সঙ্গেও বাস্তব ঘটনার তথ্যের মিল পাওয়া যায় না।
অর্থাৎ, একটি স্থানীয় ডাকাতির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজকে ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয় ও ভিন্ন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এতে ডাকাতির সময় সংঘটিত হা`ম`লাকে সাম্প্রদায়িক হা`ম`লা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপটকে পরিবর্তন করে দেয়।
সুতরাং, ফেনীতে ডাকাতির সময় মুসলিম নারীর ওপর হা`ম`লার সিসিটিভি ফুটেজকে বাংলাদেশে হিন্দু নারীর ওপর ইসলামপন্থীদের হা`ম`লার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

