
সম্প্রতি সারাদেশে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং নিয়ে জনভোগান্তির মধ্যে ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের ছবি সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ফটোকার্ডে তাকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশে কোথাও বিদ্যুতের ঘাটতি নাই!’ অর্থাৎ, দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই—এমন মন্তব্য তিনি করেছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আবিদুল ইসলাম খান বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ, বক্তব্যের উৎস বা প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স ছাড়াই তার নামে আলোচিত মন্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোথায়, কবে বা কোন প্রেক্ষাপটে আবিদুল ইসলাম খান কথিত মন্তব্যটি করেছেন—সে বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করে তার বক্তব্যের সমর্থনে মূলধারার কোনো গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রেও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া আবিদুল ইসলাম খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য, সাক্ষাৎকার ও তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করেও ‘বাংলাদেশে কোথাও বিদ্যুতের ঘাটতি নাই’ মন্তব্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে প্রচারিত ফটোকার্ডটির বক্তব্যের সঙ্গে তার প্রকৃত কোনো বক্তব্যের সম্পর্ক থাকার প্রমাণ মেলেনি।
তবে আলোচিত দাবিটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর একটি বক্তব্যের মিল রয়েছে। গত ৭ জুন জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছিলেন, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। অর্থাৎ, ভাইরাল ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যটি আবিদুল ইসলাম খানের নামে উপস্থাপন করা হলেও কাছাকাছি বক্তব্যটি প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সংসদীয় বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিদ্যুতের মোট ঘাটতি না থাকা এবং কোনো এলাকায় লোডশেডিং হওয়া—দুটি বিষয় এক নয়। ফলে একটি নির্দিষ্ট বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে অন্য ব্যক্তির নামে প্রচার করলে তা সহজেই বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

