Google search engine
HomeOthersবলিভিয়ার জাদুঘরে সংরক্ষিত শিশুদের মমির ছবিকে গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত শিশুদের ছবি...

বলিভিয়ার জাদুঘরে সংরক্ষিত শিশুদের মমির ছবিকে গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত শিশুদের ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দুটি ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত শিশুদের বাস্তব চিত্র। একটি ছবিতে দুই শিশু দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং অপর ছবিতে তাদের মৃত অবস্থার দৃশ্য দেখানো হয়। পোস্টগুলোর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে দুই মাস পর তাদের পাওয়া যায়—এবং এগুলোকে ফিলিস্তিনের গাজার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

তবে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, এই দাবিটি সঠিক নয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত মৃত শিশুদের ছবিটি কোনো যুদ্ধ বা সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনা নয়; বরং এটি বলিভিয়ার একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত দুটি শিশুর মমির ছবি।

ছবিটির উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি ২০০৬ সালে ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম Flickr-এ ‘Tanya Knight’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ছবির বিবরণে উল্লেখ ছিল, এটি বলিভিয়ার পোটোসি শহরের Casa Nacional de Moneda জাদুঘরে সংরক্ষিত ১৮০০ সালের দিকের দুটি স্প্যানিশ শিশুর মমি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় জাদুঘর সংশ্লিষ্ট ছবি অনলাইনে পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ২০২২ সালেও একই ছবি অন্য একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হতে দেখা যায়। ছবির ফটোগ্রাফার তানিয়া নাইট রয়টার্সকে নিশ্চিত করেন যে, এটি তার তোলা ছবি এবং গাজার ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

এছাড়া বলিভিয়ার জাদুঘর কর্তৃপক্ষও রয়টার্সকে জানায়, ছবিতে দেখা শিশুদের দেহ তাদের জাদুঘরের সংগ্রহে থাকা ঐতিহাসিক মমি, যা ঔপনিবেশিক আমলের এবং প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত।

সুতরাং, বলিভিয়ার জাদুঘরে সংরক্ষিত শিশুদের মমির ছবিকে গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত শিশুদের ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular