সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে—‘বগুড়ায় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকাকে ধ`র্ষ`ণের পর নি`র্ম`ম নি`র্যা`তন করছে বিএনপির স`ন্ত্রা`সী মাসুদ।’ ফেসবুকের একাধিক পেজ ও প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে।
যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে বগুড়ার কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। এটি ভারতের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভিপিন চৌহানের তৈরি অভিনয়ভিত্তিক ভিডিও। প্রকৃত প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে ভিডিওটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স`হিং`স`তার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ‘Vipin Chauhan’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল এবং ‘Vipin Chauhan Pro Wrestler’ নামের একটি ফেসবুক পেজ পাওয়া যায়। উভয় প্ল্যাটফর্মেই ভাইরাল ভিডিওটির হুবহু সংস্করণ রয়েছে। ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে ভিডিওটি ৪ সেপ্টেম্বর এবং তার আগে ১১ আগস্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। একই প্রোফাইলে একই নারী ও পুরুষকে একই স্থানে অভিনয় করতে দেখা যায়। এমন একাধিক ভিডিওও পাওয়া যায়। এসব ভিডিওর ধারাবাহিকতা থেকে স্পষ্ট—আলোচিত ভিডিওটি কোনো বাস্তব নির্যাতনের দৃশ্য নয়; বরং কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে ধারণ করা অভিনয়ভিত্তিক ভিডিও।
ভিডিওতে যে দাবি করা হয়েছে—বগুড়ায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করতে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো ঘটনা বা প্রতিবেদনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ভিডিওটির মূল সংস্করণ ভারতের কনটেন্ট ক্রিয়েটরের প্রোফাইলেই আগে থেকে প্রকাশিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে ভিডিওটিকে বগুড়ার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের দাবির সঙ্গে মূল উৎসের কোনো মিল নেই।
সুতরাং ‘বগুড়ায় শিক্ষিকাকে ধ`র্ষ`ণের পর নি`র্যা`ত`ন করছে বিএনপির স`ন্ত্রা`সী মাসুদ’—দাবিটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

