Google search engine
HomeOthers‘হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা, আর বিএনপি নেতার হুম`কি’—দাবিটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

‘হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা, আর বিএনপি নেতার হুম`কি’—দাবিটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—একজন হিন্দু মেয়েকে ধ`র্ষ`ণের পর হ`ত্যা করা হয়েছে এবং সেই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিএনপি নেতার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটির অন-স্ক্রিন লেখায় ‘খুলনা’ উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, ‘একজন হিন্দু বোনকে ধ`র্ষ`ণ করে মে`রে ফেলা হয়েছে, পড়ে আছে ধ`র্ষি`তা বোনের লাশ, অন্যদিকে নেতার হু`ম`কি—নিউজ যেন না হয়।’ এই ধরনের দাবি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও ভীতি সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট সংবেদনশীল।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে হিন্দু মেয়েকে ধ`র্ষ`ণ বা হ`ত্যার কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। ভিডিওটি আসলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বোরকা পরে চু`রি করতে গিয়ে আটক হওয়া এক যুবককে স্থানীয়দের পিটুনির ঘটনার। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবক বোরকা পরে একটি বাড়িতে ঢুকে মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করলে গৃহকর্ত্রী টের পেয়ে চিৎকার করেন। আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে আ`ট`ক করে মা`র`ধ`র করেন এবং পরে হাসপাতালে পাঠান। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির অভিযোগের পক্ষে সঠিক আলামত পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

ভিডিওটিতে নীল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ঠেন না শুনে আর এমপির ঠেন না শুনে যেন কোনো নিউজ হয় না কিন্তু।’ এই বক্তব্যটি ধ`র্ষ`ণ বা হ`ত্যার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি চু`রির ঘটনার সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের হু`ম`কি দিয়েছিলেন। ঘটনার সঙ্গে বিএনপি নেতা বা এমপির কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিওটির সঙ্গে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধ`র্ষ`ণ বা হ`ত্যার ঘটনার কোনো মিল নেই।

যাচাইয়ে ভিডিওটির দৃশ্য, স্থানীয় ভাষা, পোশাক ও ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুষ্টিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, পুলিশের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের ছবির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির তুলনা করা হয়েছে। ফলাফলে স্পষ্ট—ভিডিওটি বোরকা পরে চু`রির ঘটনার, যা পরে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে ‘হিন্দু মেয়েকে ধ`র্ষ`ণ-হ`ত্যা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক বিভ্রান্তি, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

সুতরাং ‘হিন্দু মেয়েকে ধ`র্ষ`ণের পর হ`ত্যা, আর বিএনপি নেতার হু`ম`কি’—দাবিটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular