সম্প্রতি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী বাজার এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় নি`হ`ত ব্যক্তিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দাবি করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নি`হ`ত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় নি`হ`ত ব্যক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী ছিলেন না। বরং, ওই দুর্ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং নিহত অন্য এক ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করে তথ্যটি প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মো. আবুল বাশারের ফেসবুক প্রোফাইলে গত ১৪ জুলাই প্রকাশিত একটি পোস্টে দুর্ঘটনায় নি`হ`ত ব্যক্তির ছবি পাওয়া যায়। পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়, নি`হ`ত ব্যক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। তবে দুর্ঘটনাকবলিত বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরবর্তীতে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি—কুবিসাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী সাজ্জাদুর রহমান মাহি। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রী ছিলেন। বিভাগীয় প্রধান ও আহত শিক্ষার্থীর বন্ধুদের বরাতেও জানানো হয়, দুর্ঘটনায় নি`হ`ত ব্যক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।
এছাড়া, একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি ছিলেন ইমরান গাজী (২৮), যিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার ফজলুল হক গাজীর ছেলে। অর্থাৎ, নি`হ`ত ব্যক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না; বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

