Google search engine
HomePoliticsশেখ হাসিনাকে ফেরাতে পুতিনের নির্দেশে রাশিয়া-ভারতের গোপন কূটনৈতিক তৎপরতার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন...

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে পুতিনের নির্দেশে রাশিয়া-ভারতের গোপন কূটনৈতিক তৎপরতার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর প্রচার

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং তাঁর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ভারত যৌথভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এসব পোস্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি নির্দেশনা এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা নিরসনে মস্কো ও নয়াদিল্লির সমন্বিত উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগ কিংবা এ বিষয়ে পুতিনের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের আলোচনা ছড়ালেও তা সমর্থন করে ভারত বা রাশিয়া সরকারের কোনো বক্তব্য, যৌথ বিবৃতি কিংবা কূটনৈতিক নথি সামনে আসেনি।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। ফলে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি মূলত দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে এসব যোগাযোগকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে দেখানোর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। একইভাবে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন—এমন দাবির পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।

রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এই সম্পর্কের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো যৌথ কূটনৈতিক তৎপরতার যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। জাতিসংঘ বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি জটিলতা নিরসনে রাশিয়া ও ভারত সমন্বিতভাবে কাজ করছে—এমন দাবিরও কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগ, পুতিনের নির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত তৎপরতার যে বিবরণ প্রচার করা হচ্ছে, তা মূলত প্রমাণহীন আলোচনা ও অনুমানের ওপর নির্ভরশীল। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, যৌথ বিবৃতি কিংবা নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র প্রয়োজন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular