Google search engine
HomeOthersহিন্দু হওয়ায় কুয়েটের পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতের দাবিটি বিভ্রান্তিকর, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের...

হিন্দু হওয়ায় কুয়েটের পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতের দাবিটি বিভ্রান্তিকর, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের পর নেওয়া হয় এই সিদ্ধান্ত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, কোনো কারণ দর্শানো বা নোটিশ ছাড়াই খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) পাঁচ হিন্দু শিক্ষক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রচারিত পোস্টে চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং পুনর্বহালের দাবি জানানো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কুয়েটের পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় পাঁচ শিক্ষকসহ মোট সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে দুইজন মুসলিম শিক্ষকও রয়েছেন।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গত ২৯ অক্টোবর ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য, নিয়োগের সময় বয়সসংক্রান্ত অনিয়ম, ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দাখিলসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত সাতজনই দীর্ঘদিন ধরে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় নিয়মিত ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়।

অধ্যাপক ড. সুব্রত তলাপাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১০ সালে প্রভাষক পদে আবেদনের সময় তাঁর বয়স ৩০ বছরের বেশি ছিল, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে, মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসরুরা মোস্তফার বিরুদ্ধে নিয়োগের সময় বয়সসংক্রান্ত অনিয়ম এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্ম-অভিজ্ঞতা গণনার অভিযোগ রয়েছে।

একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার রোমানের বিরুদ্ধে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করা এবং গবেষণাপত্রের তথ্য নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। সহকারী অধ্যাপক নিবিড় মণ্ডলের বিরুদ্ধে চাকরিতে যোগদানের সময় প্রকল্পের অভিজ্ঞতা দেখানো এবং সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় বিদেশ থেকে নির্ধারিত সময়ে ফিরে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রির বিরুদ্ধে নিয়োগের সময় মিথ্যা অভিজ্ঞতার সনদ দাখিল এবং অফিস সহায়ক সত্যজিৎ কুমার দত্তের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কমিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যুগান্তর ও জাগো নিউজেও প্রতিবেদন এবং প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনেও চাকরিচ্যুতির পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়টি উঠে এসেছে। কোথাও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁদের চাকরিচ্যুত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, কুয়েটের পাঁচ হিন্দু শিক্ষক-কর্মচারীকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট সাত চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে দুইজন মুসলিম শিক্ষকও রয়েছেন। ফলে ঘটনাটিকে কেবল হিন্দু শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের অভিযোগ তোলা বিভ্রান্তিকর।

সুতরাং, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে কুয়েটের পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular