সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, চাঁ`দা না দেওয়ায় এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার মুড়িসহ অন্যান্য সামগ্রী রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। ছবিটিতে এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে রাস্তায় পড়ে থাকা মুড়ি ও অন্যান্য জিনিসপত্রের পাশে দেখা যায়।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে ছবিটির উৎস ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যম বা গ্রহণযোগ্য সূত্রে চাঁ`দা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে, প্রচারিত ছবিটিরও কোনো নির্ভরযোগ্য মূল উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ছবিটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেও বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখা যায়। বিশেষ করে বৃদ্ধ ব্যক্তির অঙ্গভঙ্গি, মুড়ি ও অন্যান্য সামগ্রীর অবস্থান এবং আশপাশের বিভিন্ন উপাদানের উপস্থাপনায় অস্বাভাবিকতা রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবির ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়।
ছবিটির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের জন্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম হাইভ ডিটেক্টে পরীক্ষা করা হলে ছবিটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ দেখানো হয়।
অর্থাৎ, চাঁ`দা না দেওয়ায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মুড়ি ও অন্যান্য সামগ্রী রাস্তায় ফেলে দেওয়ার যে দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সেটি কোনো বাস্তব ঘটনার ছবি নয়। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ছবিকে বাস্তব ঘটনার দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সুতরাং, চাঁ`দা না দেওয়ায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মুড়ি রাস্তায় ফেলে দেওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই নির্মিত এবং দাবিটি বিভ্রান্তিকর।

