সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড ঘুরছে, যাতে চ্যানেল আইয়ের লোগো ও নিউজ-কার্ডের মতো ডিজাইন ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছে—জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান অভিনেত্রী মারিয়া মিমকে সঙ্গে নিয়ে থাইল্যান্ড ঘুরতে গিয়েছিলেন। উপস্থাপনা দেখে সহজেই মনে হতে পারে, এটি ওই সংবাদমাধ্যমের প্রচারিত খবর। ব্যক্তির ভাবমূর্তি এবং গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে এমন দাবি বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য সংবেদনশীল।
যাচাইয়ে দেখা যায়, চ্যানেল আই এই বিষয়ে কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। প্রচারিত কার্ডটি নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নকশা করা একটি ভুয়া গ্রাফিক।
প্রথমে কার্ডটি খতিয়ে দেখা হয়। তাতে চ্যানেল আইয়ের লোগো থাকলেও সংস্থাটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট বা ইউটিউবে এ ধরনের কোনো খবর নেই। অন্য মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও রাশেদ প্রধান ও মারিয়া মিমের থাইল্যান্ড ভ্রমণ নিয়ে কোনো প্রতিবেদন মেলেনি।
কার্ডটির উৎস পরীক্ষায় এআই কনটেন্ট যাচাই টুলে এআই-তৈরি ছবির বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে এবং তাতে SynthID ওয়াটারমার্ক সক্রিয় থাকে। এই ওয়াটারমার্ক এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা মিডিয়ার ভিতরে থাকা ডিজিটাল সংকেত, যা পরে কনটেন্টটি মেশিন-জেনারেটেড কি না তা বুঝতে সাহায্য করে।
দুজনের পাবলিক ফেসবুক প্রোফাইলেও থাইল্যান্ড যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কার্ডটি ছড়িয়েছে ‘Sayma Mahi’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে। পেজটির পুরোনো পোস্ট ঘেঁটে দেখা যায়, সেখানে ভুয়া পরিচয়, অন্যের ছবি এবং এআই গ্রাফিককে বাস্তব সংবাদ হিসেবে তুলে ধরার আগের নজিরও আছে।
যাচাইয়ে কার্ডের চেহারা, চ্যানেল আইয়ের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম, অন্য গণমাধ্যমের আর্কাইভ, সংশ্লিষ্ট দুজনের প্রোফাইল এবং এআই-শনাক্তকরণ ফল একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। সিদ্ধান্ত স্পষ্ট—সংবাদমাধ্যমের লোগো লাগিয়ে এআই দিয়ে বানানো একটি কার্ডকে খবর বলে চালানো হচ্ছে। এতে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অহেতুক গুজব ছড়ায়।
অতএব, রাশেদ প্রধান মারিয়া মিমকে নিয়ে থাইল্যান্ড ঘুরেছেন এবং চ্যানেল আই সেটি প্রচার করেছে—এই দাবি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

