কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হ`ত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ থেকে শিশুটির মৃ`ত্যু নিয়ে উল্লাস, উপহাস এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব পোস্টে নি`হ`ত শিশুটির মায়ের রাজনৈতিক অবস্থান ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তার ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে অপ্রতিমের হ`ত্যাকাণ্ডকে তার মায়ের কথিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ‘ফল’, ‘কর্মফল’ বা ‘প্রায়শ্চিত্ত’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লার লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মা`ম`লা হয়েছে এবং পুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আ`ট`ক করে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে।
অর্থাৎ, অপ্রতিমের হ`ত্যাকাণ্ড একটি চলমান ফৌজদারি তদন্তের বিষয়। পুলিশ এ ঘটনায় আলামত ও ক্লু সংগ্রহ করে তদন্ত করছে এবং হ`ত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে আইফোনকে কেন্দ্র করে হ`ত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হ`ত্যার চূড়ান্ত কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে হ`ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নাহিদা বেগমের রাজনৈতিক অবস্থানকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। কোনো কোনো পোস্টে তাকে ‘লালবদর’, ‘জুলাই স-ন্ত্রা-সী’ ও ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে তার সন্তানের মৃ`ত্যুকে ‘কর্মফল’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’ কিংবা ‘উপহার’ বলা হয়েছে। আবার কোথাও দাবি করা হয়েছে, নাহিদা বেগম ২০২৪ সালের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে তার সন্তান হ`ত্যার মাধ্যমে কথিত ‘ফল’ পেয়েছেন। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে একটি ১৩ বছর বয়সী শিশুর হ`ত্যাকাণ্ডের বাস্তব তদন্তকে পাশ কাটিয়ে তার মায়ের রাজনৈতিক পরিচয়কে হ`ত্যাকাণ্ডের কারণ বা নৈতিক প্রতিফল হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অপ্রতিমের হ`ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। বরং বর্তমানে পুলিশ হ`ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করছে। ফলে তদন্তাধীন একটি হ`ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নি`হ`ত শিশুর মায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে সরাসরি যুক্ত করে সন্তানের মৃ`ত্যুকে তার ‘কর্মফল’ বা ‘প্রায়শ্চিত্ত’ হিসেবে প্রচার করার কোনো তথ্যগত ভিত্তি নেই।
সুতরাং, অপ্রতিমের নি`র্ম`ম হ`ত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তার মায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে টেনে এনে শিশুটির মৃ`ত্যুকে ‘কর্মফল’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’ বা ‘উপহার’ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং এ নিয়ে উল্লাস-উপহাসের প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ অমানবিক ও বিভ্রান্তিকর। এটি হ`ত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও চলমান তদন্তের তথ্যের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিদ্বেষকে কেন্দ্র করে তৈরি করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা।

