সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সনাতন ধর্মাবলম্বী বা হিন্দুদের বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে প্রচারিত এই দাবি এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাটি কোনো হিন্দু ব্যক্তির বাড়ির নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের গোমকোট গ্রামের বানিয়াচৌ পাড়ার এক মুসলিম কৃষকের বসতঘরের অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। ওই কৃষকের নাম শাহ আলম। কৃষকের পরিবার ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলমের ঘরে থাকা ফ্রিজ থেকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল এবং এতে বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর সাথে কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা বা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই।
অর্থাৎ, একজন মুসলিম কৃষকের বাড়িতে ঘটা নিছক একটি অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনাকে ভিন্ন রূপ দিয়ে এবং ভিন্ন ধর্মের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটানো হয়েছে। মূলত জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যেই এই মিথ্যা তথ্যটি অনলাইনে প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সনাতনীদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট; ঘটনাটি মূলত শাহ আলম নামের এক মুসলিম কৃষকের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ঘটা একটি সাধারণ অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা।

