Google search engine
HomePoliticsআসিফ মাহমুদের ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ দুদকের আগে থেকেই একই...

আসিফ মাহমুদের ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ দুদকের আগে থেকেই একই দাবি ছড়ানো হয়েছিল এআই প্রতিবেদনে

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দুদকের সংবাদ সম্মেলনের প্রায় সাত মাস আগেই একই অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং এর খাতভিত্তিক হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল।

গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’সহ বিভিন্ন পেজে প্রকাশিত কথিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আসিফ মাহমুদের মাধ্যমে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। পাশাপাশি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর অভিযোগও তোলা হয়। এসব প্রতিবেদনে বিভিন্ন নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের কথা বলা হলেও দাবিগুলোর সমর্থনে যাচাইযোগ্য কোনো নথি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনের ভাষা ও উপস্থাপনাতেও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

পরবর্তীতে দুদকের পক্ষ থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের কথা জানানো হলে আগে ছড়িয়ে পড়া সেই প্রচারগুলো আবার সামনে আসে। বিশেষ করে পুরোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ১১ হাজার কোটি টাকার অঙ্ক এবং বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের হিসাবের সঙ্গে দুদকের অভিযোগের মিলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে নানা দাবি ছড়াতে দেখা যায়। তবে শুধু অঙ্ক বা অভিযোগের মিল থাকলেই আগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিবেদনই দুদকের অভিযোগের উৎস ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে পুরোনো ও নতুন তথ্যের সঙ্গে আরও বিভিন্ন মিথ্যা দাবি যুক্ত করা হয়। একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কারণে পুলিশ আসিফ মাহমুদকে খুঁজছে এবং তিনি ভয়ে বাথরুমে লুকিয়ে আছেন। কিন্তু যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওটির দৃশ্য ২০২২ সালের। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোথাও দাবি করা হয়, তার পাচার করা অর্থের সন্ধান সুইস ব্যাংকে পাওয়া গেছে, আবার কোথাও বলা হয় দুদক অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এমনকি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবিতেও একটি ছবি প্রচার করা হয়, যা এআই-নির্মিত বলে শনাক্ত হয়েছে।

অর্থাৎ, দুদকের সাম্প্রতিক অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধারাবাহিক প্রচার তৈরি হয়েছে, তার একটি বড় অংশে কয়েক মাস আগে ছড়িয়ে পড়া একই ১১ হাজার কোটি টাকার অভিযোগকে নতুন তথ্য বা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে পুরোনো ভিডিও, এআই-নির্মিত ছবি এবং যাচাইহীন বিভিন্ন দাবিও যুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার অনলাইন পোর্টাল ‘আজকের কণ্ঠে’ প্রকাশিত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন ধরে দুদক একই অভিযোগ করেছে। তিনি এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগও করেন। তবে তার এই বক্তব্যও তার নিজস্ব দাবি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত এবং এ অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সুতরাং, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগকে ঘিরে কয়েক মাস আগে ছড়ানো সূত্রহীন প্রতিবেদন, পুরোনো ভিডিও ও এআই-নির্মিত ছবি ব্যবহার করে নতুন নতুন দাবি তৈরি করা হচ্ছে। এসব প্রচারের অনেকগুলোই যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া উপস্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অপতথ্যমূলক প্রচার চলছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular