সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সার সংকট নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং বিএনপির চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেছেন যে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে সারের দাবিতে কৃষকদের গুলি খেয়ে মরতে হয়েছিল এবং ওই সময়ে মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, জাতীয় সংসদে দেওয়া এই উভয় তথ্যই অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনাটি ২০০১-২০০৬ সালের নয়; বরং এটি ঘটেছিল ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে। তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে সারের দাম বৃদ্ধি ও চরম সংকটের প্রতিবাদে জামালপুর, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা বিক্ষোভ করলে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১২ জন কৃষক নিহত হন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের ওই মর্মান্তিক ঘটনার সময় কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মেজর জেনারেল এম. মজিদ-উল হক (অব.)। তিনি ১৯৯১ সালের ১ মার্চ থেকে ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। সেসময় মতিউর রহমান নিজামী ওই মন্ত্রিসভাতেই ছিলেন না।
অন্যদিকে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পুরো মেয়াদজুড়ে মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। তিনি মূলত ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ২২ মে পর্যন্ত (প্রায় দেড় বছর) কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন এম. কে. আনোয়ার। তাছাড়া ২০০১-২০০৬ মেয়াদে সারের দাবিতে কৃষক নিহতের এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
অর্থাৎ, ১৯৯৫ সালের সার আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনাকে ভুলভাবে ২০০১-২০০৬ সালের মেয়াদের সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভুল ব্যক্তির নাম কৃষিমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং, সার সংকটে কৃষকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনাটিকে ২০০১-২০০৬ সালের বলে দাবি করা এবং সেসময় মতিউর রহমান নিজামীকে কৃষিমন্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করে সংসদে দেওয়া বক্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও তথ্যগতভাবে ভুল।

