গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার সময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বে ঋণখেলাপিদের সর্বোচ্চ অবস্থানে যাবে। তাঁর বক্তব্যে এমন ধারণা দেওয়া হয় যে, বিএনপি সরকারের বর্তমান মেয়াদেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের হারে পৌঁছেছে।
তবে বিভিন্ন সময়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার ঘটনা বিএনপি সরকারের বর্তমান সময়েই প্রথম ঘটেনি। বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল।
২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য পর্যালোচনা করে জানানো হয়, ওই সময় বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সে সময় এটিই ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের হার। একই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইউক্রেনের খেলাপি ঋণের হার ছিল ২৬ শতাংশ।
অর্থাৎ, রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময়ের আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। ফলে বিএনপি সরকারের সময়েই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এই অবস্থানে পৌঁছেছে—এমন দাবি তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে খেলাপি ঋণের এই পরিস্থিতির দায় কেবল একটি সরকারের সময়ের ওপরও বর্তায় না। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ, ঋণ পুনঃতফসিল ও বিশেষ ছাড়, ঋণ শ্রেণিকরণের নিয়মে পরিবর্তন, সুদহার বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে গেলেও এর বড় একটি অংশের পেছনে আগের বছরগুলোর জমে থাকা সমস্যাও রয়েছে।
এ ছাড়া একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে দেশটি সংশ্লিষ্ট সূচকে নতুন তথ্য না দেওয়ায় বর্তমান তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে তথ্যের সময়কালও বিবেচনায় নিতে হয়।
সুতরাং, বাংলাদেশ বিএনপি সরকারের আমলেই প্রথমবার ঋণখেলাপিতে বিশ্বে শীর্ষে উঠেছে—রুমিন ফারহানার বক্তব্যের এই অংশটি সঠিক নয়। বাংলাদেশ এর আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। তাই তাঁর দাবিটি বিভ্রান্তিকর।

