সম্প্রতি ভারতের নাগরিক Vikas Pokhariyal তাঁর X অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করেছেন, এটি বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের হা`ম`লার শিকার এক হিন্দু নারী শিক্ষকের দৃশ্য। পোস্টটির মাধ্যমে ঘটনাটিকে ধর্মীয় নি`পী`ড়`নের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত দাবির সঙ্গে ভিডিওটির প্রকৃত ঘটনার কোনো মিল নেই। ভিডিওতে থাকা নারী কোনো হিন্দু শিক্ষক নন; তিনি রাজবাড়ীর একজন মুসলিম নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা। ভিডিওটি মূলত রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজারে একটি ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে লা`ঞ্ছি`ত ও মা`র`ধ`রের ঘটনার।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাকিয়া সুলতানা রাজবাড়ীর কাদেরিয়া মার্কেটের ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তাঁর এক নারী কর্মচারীর চাকরি ছাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হলে ২৯ আগস্ট তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ ও মা`র`ধ`রের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই ওই নারীকে লাথি ও মা`র`ধরের দৃশ্য দেখা যায়। তবে ঘটনাটি কোনো ধর্মীয় সংঘাত বা সাম্প্রদায়িক হা`ম`লা হিসেবে উল্লেখ করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষও ঘটনাটিকে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, একই ভিডিওকে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নি`র্যা`ত`নের প্রমাণ হিসেবে প্রচারের বিষয়ে পৃথক যাচাইয়েও দেখা গেছে, ভিডিওতে থাকা নারী একজন মুসলিম ব্যবসায়ী এবং ঘটনাটির সঙ্গে সাম্প্রদায়িক হামলার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
অর্থাৎ, রাজবাড়ীতে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে একজন মুসলিম নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিত করার বাস্তব ঘটনার ভিডিওকে তাঁর পরিচয় পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের হাতে হিন্দু নারী শিক্ষককে হা-ম-লা’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। এতে একটি বাস্তব ঘটনাকে ধর্মীয় নিপীড়নের ভিন্ন বয়ানে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।

