সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, রাজবাড়ীতে ভোক্তা অধিকার সংস্থার অভিযান পরিচালনার সময় এক নারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হকার্স দলের সদস্যরা হা`ম`লা করেছে। ভিডিওতে এক নারীকে ঘিরে কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির দৃশ্য দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত ঘটনার পরিচয় ও প্রেক্ষাপট সঠিক নয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা নারী কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নন। তিনি রাজবাড়ীর কাদেরিয়া মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী। ঘটনাটি ভোক্তা অধিকার অভিযান কিংবা সরকারি কোনো কর্মকর্তার ওপর হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং ওই নারী ব্যবসায়ী ও তাঁর সাবেক এক নারী বিক্রয়কর্মীর মধ্যকার ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর দোকানের সাবেক বিক্রয়কর্মীকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চাওয়া এবং পরবর্তীতে প্রতিবাদ/মানববন্ধন করতে গেলে মার্কেটের লোকজনের সঙ্গে তাঁর ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরোধ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁর স্বামী এসে তাঁকে বাসায় নিয়ে যান।
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতেও এটিকে ভোক্তা অধিকার অভিযানের ঘটনা বা কোনো নারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হা`ম`লা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং প্রতিবেদনে ঘটনাটির পেছনে ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয়টিই উঠে এসেছে।
অর্থাৎ, একটি স্থানীয় ব্যবসায়িক বিরোধের ভিডিওকে ভিন্ন পরিচয় ও প্রেক্ষাপট দিয়ে ভোক্তা অধিকার অভিযানে নারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। এতে ঘটনার প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
সুতরাং, রাজবাড়ীতে ভোক্তা অধিকার অভিযান পরিচালনার সময় নারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হকার্স দলের হা`ম`লার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর; ভিডিওতে থাকা নারী কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নন এবং ঘটনাটিও ভোক্তা অধিকার অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

