
সম্প্রতি সাবেক উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেনের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বক্তব্যে বাংলাদেশকে ‘বাঁচাতে’ সচিবালয় ও সেনাবাহিনীকে ‘পাকিস্তানমুক্ত’ করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বক্তব্যটির কোনো নির্দিষ্ট সময়, স্থান বা অনুষ্ঠানের সূত্র অবশ্য পোস্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বক্তব্যটি এম. সাখাওয়াত হোসেনের নয়। আলোচিত উদ্ধৃতিটির বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করে তাঁর এমন কোনো বক্তব্যের নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন, ভিডিও বা লিখিত উৎস পাওয়া যায়নি। তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে; সেখানেও আলোচিত মন্তব্যের কোনো ভিত্তি মেলেনি।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত করতে এম. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি জানান, তিনি এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে তাঁর নিজের বক্তব্যেই প্রচারিত উদ্ধৃতিটির সত্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়।
এদিকে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘The Wall News ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে কথিত বক্তব্যটি সংবাদ প্রতিবেদনসদৃশ করে প্রচার করা হয় এবং সেখান থেকেই দাবিটি ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই পোস্টে উদ্ধৃত বক্তব্যের কোনো মূল উৎস, বক্তব্যের ভিডিও, অনুষ্ঠান, তারিখ কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
পোস্টটির ভাষাতেও নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতার মৌলিক তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। যেমন—বক্তব্যের স্থান-কাল ও প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত, অথচ সূত্রহীনভাবে ‘রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে’ বা ‘সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি’ ধরনের বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। এসব কারণে পোস্টটিকে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, এর আগেও এম. সাখাওয়াত হোসেনের নামে ভারত ও সচিবালয়-সেনাবাহিনী সংক্রান্ত একই ধরনের ভুয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ, তাঁর নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বক্তব্য প্রচারের প্রবণতার সঙ্গে আলোচিত দাবিটিরও সাদৃশ্য রয়েছে।
সুতরাং, ‘বাংলাদেশকে বাঁচাতে সচিবালয় ও সেনাবাহিনীকে পাকিস্তানমুক্ত করতে হবে’—এমন বক্তব্য এম. সাখাওয়াত হোসেন দিয়েছেন বলে যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তা ভুয়া ও বানোয়াট।

