সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম আলো পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ‘দে’ বলে সম্বোধন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে—এমন একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে। দাবিটির সঙ্গে প্রথম আলোর একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশটও প্রচার করা হয়, যেখানে প্রতিবেদনের থাম্বনেইলে শিরোনামের শেষাংশে ‘দে’ শব্দটি দৃশ্যমান ছিল।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত স্ক্রিনশটের ‘দে’ শব্দটি কোনো ব্যক্তিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্বোধন করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়নি। এটি ছিল প্রতিবেদনের পূর্ণ শিরোনামের একটি অংশ, যা থাম্ব প্রিভিউতে জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে অসম্পূর্ণভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।
প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর পূর্ণ শিরোনাম ছিল—“পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য প্রত্যাহার করে নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়ার দাবি বিজেআইএমের”। অর্থাৎ, থাম্ব প্রিভিউতে দৃশ্যমান ‘দে’ শব্দটি মূল শিরোনামের ‘দেওয়ার’ শব্দের অংশবিশেষ; এটি আলাদাভাবে কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখা কোনো সম্বোধন নয়।
প্রযুক্তিগতভাবে লিংক প্রিভিউয়ের নির্দিষ্ট জায়গায় দীর্ঘ শিরোনাম সম্পূর্ণ প্রদর্শিত না হওয়ায় ‘দেওয়ার’ শব্দটি আংশিকভাবে ‘দে’ হিসেবে দৃশ্যমান হয়েছে। পরবর্তীতে এই আংশিক প্রদর্শনকেই আলাদা অর্থে উপস্থাপন করে প্রথম আলো পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অসম্মানজনকভাবে সম্বোধন করেছে—এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া, বিষয়টি নজরে আসার পর প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্টের থাম্ব প্রিভিউ পরিবর্তন করা হয় এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়। ফলে প্রচারিত স্ক্রিনশটের দৃশ্যমান অংশকে প্রতিবেদনের প্রকৃত শিরোনাম বা প্রথম আলোর উদ্দেশ্যপূর্ণ সম্বোধন হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।
সুতরাং, প্রথম আলো পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ‘দে’ বলে সম্বোধন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। দীর্ঘ শিরোনাম থাম্ব প্রিভিউতে অসম্পূর্ণভাবে প্রদর্শিত হওয়ার কারিগরি সীমাবদ্ধতাকে কেন্দ্র করেই বিভ্রান্তিকর দাবিটির সৃষ্টি হয়েছে।

