সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নামে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরার আগে তারেক রহমান নাকি একাধিকবার ফোন করে ভারতের অনুমতি চেয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে ‘গোপনীয়তা ফাঁস’ করার হু-ম-কি দিয়েছেন জয়শঙ্কর। পোস্টগুলোতে সরাসরি তারেক রহমানের নাম না থাকলেও ‘লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরা’ প্রসঙ্গের মাধ্যমে তাঁকেই বোঝানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এস জয়শঙ্কর এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রচারিত বক্তব্যের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান, অনুষ্ঠান বা মূল ভিডিও পোস্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি। বক্তব্যটির সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করেও কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, সরকারি বিবৃতি বা জয়শঙ্করের বক্তব্যে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
বরং তারেক রহমানের ভারত সফর এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জয়শঙ্করের যে বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ২২ আগস্টের এক অনুষ্ঠানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে আল জাজিরা ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর ওই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
এসব নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ভারতের অনুমতি চাওয়া, একাধিকবার ফোন করা কিংবা ‘গোপনীয়তা ভাঙতে বাধ্য করার’ মতো কোনো মন্তব্যের উল্লেখ নেই। ফলে প্রচারিত বক্তব্যটি জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে বক্তব্যের মূল উৎস, পূর্ণাঙ্গ ভিডিও, বক্তব্যের সময় ও স্থান কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র থাকা জরুরি। কিন্তু আলোচিত পোস্টগুলোতে এসবের কোনোটিই উপস্থাপন করা হয়নি। শুধু একজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের রাজনীতিকের নাম ব্যবহার করে একটি উদ্ধৃতি প্রচার করলেই সেটিকে তাঁর প্রকৃত বক্তব্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।
সুতরাং, তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ‘লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরার আগে ভারতের অনুমতি চেয়েছিলেন’ এবং ‘গোপনীয়তা ফাঁস করতে বাধ্য করবেন না’—এমন মন্তব্য এস জয়শঙ্কর করেছেন বলে যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তা ভুয়া ও বানোয়াট।

